শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২০

নীহারিকার সাক্ষাৎকার উদ্যোগ





নীহারিকা প্রকাশনী

৩০ নভেম্বর,২০১৬

 

  প্রশ্ন করুন 
..................... 

সম্রাট অশোকের নামের সাথে মিলিয়ে তার নাম। কথায় আছে নামে নামে যমে টানে। কিন্তু তাকে না যম না ঈশ্বর, কেউ নেয়নি। তিনি না হয়েছেন সম্রাট না সন্ন্যাসী। লেখেন বাংলা কবিতা। পাণ্ডব হয়েও যুদ্ধ লড়েন কৌরবদের পক্ষে। কেউ একজন বলেছেন, তাই তিনি বাংলা কবিতার
কর্ণ। বইয়ের প্রচ্ছদ থেকে শুরু করে বদলীর দরখাস্ত, কবিতার এবং গল্প লেখার চেয়ে এসবেই তিনি ব্যস্ত থাকতে ভালোবাসেন। 

এবার নীহারিকার অনলাইন বন্ধুদের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের শিকার তিনি। আসুন বন্ধুরা বাংলা কবিতার
কর্ণ-কে প্রশ্নশয্যায় (শরশয্যার পরিবর্তে) শায়িত করে জেনে নেই তার কবিতায় বিনিয়োগ করে বিশ্বের কোন মাফিয়া সম্রাট? ৫০০ এবং হাজার টাকার নোট বাতিলের পর তিনি কী পরিমাণ সোনা মজুত করে চলেছেন দিনরাত্রি? বজরঙ্গী ভাইজান না বজরঙ দল তিনি কার সাপোর্টার? 

 

প্রশ্নোত্তর পর্ব

 

শুভঙ্কর চক্রবর্তী:  কি লিখি তোমায়? 

তুমি ছাড়া কোনো কিছুই 
ভালো লাগে না আমার..... 
মাঝে মাঝে এমন অবস্থা তোর হয় কি? 

অশোক: মাঝে মাঝে? 

শুভঙ্কর: তবে কি সবসময়ই হয়?

অশোক : 🙂

 

 

দুর্জয় আশরাফুল ইসলাম:

  শুভ্রাদি থেকে প্রথম জানা। খুব প্রিয় কবি। 
প্রশ্ন যদি রাখতেই হয়, বলি, বাংলা কবিতায় বিশেষত কবিরা যেরকম বিভাজিত, কবিদের ব্যক্তিস্বার্থের প্রতি যে মোহ দিন দিন বাড়ছে, সেখানে আপনার মতো নিভৃতচারী কবি যারা, তাদের কবিতাকে একটা বিশ্রী আড়াল করছে বিজ্ঞাপনী ভার্চুয়াল, সেখানে বাংলা কবিতার ভবিষ্যৎ নিয়ে আপনার আশাবাদ কি?

অশোক:  ধন্যবাদ দুর্জয়। 

যেহেতু নিভৃতি প্রিয়, সুতরাং আড়াল নিয়ে অনুযোগ নাই। লেখা সক্ষম হলে আড়াল কিছু করতে পারে না। আমি আমার লেখালেখির সক্ষমতা সম্পর্কে যথেষ্ট সন্দিহান। 

দুর্জয়: সন্দিহান, পরিতৃপ্ত হতে না পারাটাই মূলত লেখকদের চালিকাশক্তি :) 

 

 

প্রসেনজিৎ দেবনাথ: আমার তোমাকে কয়েকটা প্রশ্ন আছে Asoke দাদা তোমার কাছে।

১) যখন তুমি ছবি আঁকো তখন তুমি চিত্রকর। 

২) যখন তুমি কবিতা লিখো তখন তুমি কবি। 

৩) যখন তুমি গল্প লিখো তখন তুমি গল্পকার। 

৪) যখম তুমি পত্রিকায় লিখো তখন তুমি সংবাদ সাহিত্যিক। 

৫) যখন তুমি নাটক ;লিখো তখন তুমি নাট্যকার 

৬) যখন মঞ্চে কথা বলো তখজন তুমি সম্রাট কি করে 

এত গুণের আধীকারি তুমি কি করে?? 

অশোক: আমার মা বলতে পারবেন। :) :) 


তবে আমি বিশ্বাস করি, জীবন মহার্ঘ্য, তার দেবার মত অনেক আছে। নিংড়ে নাও। তাই নিই। কখনো দুগ্ধ আসে কখনো রক্ত।

প্রসেনজিৎ:  Asoke দাদা ইকটু বুঝিয়ে বলো না

সুমিত কুমার দত্ত: নাট্যকার,সুরকার,গীতিকার, ভালো বক্তা,মন্চশিল্পী,,,,,,," আপনি অশোকের এই প্রতিভাগুলি বাদ দিয়েছেন তাই এই গুলি আমি লিখে দিলাম. @Prasenjit Debnath 

অশোক: Sumit Kumar Datta ও সুমিতদা... সুর? 

প্রসেনজিৎ: তা তো আছেই দাদা Sumit Kumar Datta , তবুও আমাকে যদি Asoke দাদা ইকটু বুজিয়ে বলে তাহলে খুশী হবো । আর এই প্রশ্ম টা "সন্ধ্যার সেই শান্ত উপহারে" ও করেছিলো কিন্তু উওর টা বুঝতে পারি নি , তাই আমি আবার করেছি । প্লিজ দাদা আমাকে ইকটু বলো না প্লিজ... 

অশোক: Prasenjit Debnath বললাম তো। জীবনের কাছে ঠিক মত চাইলে সব পাওয়া যায়। অনুশীলন, অনুশীলন, অনুশীলন... এ ছাড়া আর কোনও চাবি নেই 

প্রসেনজিৎ: Pradip দাদা আপনি ও অশোক দাদার কথার সাথে এক মত যে "জীবনের কাছে ঠিক মতো চাইলে সব পাওয়া যায়" 

সুমিত: আমি যদি বলি একাগ্রতা ও সাধনা। @ Prasenjit Debnath. অশোক কি বলে? 

প্রসেনজিৎ: আর Asoke দাদা আরেক টা প্রশ্ন তোমার কাছে,

একদিন তোমার বাড়িতে গিয়ে গল্প করতে করতে শুনেছি তুমি নাকি বাড়ি ছেড়ে চলেগিয়েছো , এটা কি "জীবনের কাছে ঠিক মত চাইলে সব পাওয়া যায়। অনুশীলন, অনুশীলন, অনুশীলন... এ ছাড়া আর কোনও চাবি নেই" এই কারনে ! 

অশোক: sumit kumar datta একদম

অশোক: Prasenjit বাড়ি পালানো আমার স্বভাবদোষ। প্রায়ই পালাতাম। আর শেষে বাবা বার করে দিয়েছিলেন। বাড়িতে বসে জীবন দেখা যায় না। এমন অনেকে বাড়ি পালায়। তরুণ কবি তানিম কবিরও বেশ বাড়ি-পালানিয়া... 

 

তমা বর্মণ: শ্রদ্ধেয় কবির কাছে বিনীত প্রশ্ন রাখি , কবিতার কি সত্যিই নির্দিষ্ট কোনো ব্যকরণ আছে যা প্রত্যেক কবিকে বাধ্যতামুলকভাবে মেনে চলতে হয় ? নাকি কবির নিজস্বতাই কবিতার শেষ কথা । 
অশোক: ব্যাকরণ থাকে না। মানুষ তৈরি করে। সুতরাং কবিতার যে ব্যাকরণ তা মনুষ্যনির্মিত। তাই মানুষেরই অধিকার তার ওপর। সক্ষম কবি নিজের ব্যকরণ স্থির করেন, নবতর আলোক দেখান। পরে তা-ই মান্য হয়। 

মাইকেল মধুসূদন থেকে 'মানসী'র রবিঠাকুর হয়ে জীবনানন্দ (আরও অনেক সক্ষম মানুষ) তাই করেছেন।

 

 

প্রদীপ মজুমদার: আমার প্রিয় কবি ও বন্ধু অশোকের কাছে বেশ কিছু প্রশ্ন, জেনে নেব ধাপে ধাপে । কিছু দিন আগেই আমাদের অগ্রজ কবি কৃত্তিবাস তোমাকে একটি অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন তা কি তুমি মেনে নিচ্ছ? আর কবিতায় ভেন্টিলেশন ব্যপারটা কি ? কাদের কাদের কবিতায় তথাকথিত ভেন্টিলেশনের মাধ্যমে হাওয়ার গতায়াত লক্ষ করেছো ?

অশোক:  ভেবেছিলাম অগ্রজ কবি Krittibasদার কাছ থেকে সুযোগ করে বুঝে নেব সেটি। 

আমার মনে হয় দুর্গমতার কথা বলে থাকতে পারেন। আমার অধুনাকালীন কবিতা প্রায় উপাসনা বাক্য হয়ে উঠেছে, বুঝতে পারি। উপাস্য ব্যক্তি বা অনুভূতির দিকে তারা সতত ধাবমান হয়ে পড়ে। হয়তো তাই একটু বেশি বায়ুকষ্ট হচ্ছে।
'ভেন্টিলেশন' যেহেতু কৃত্তিবাসদার কথা, প্রশ্নের বাকি অংশ আমার আওতায় নেই 

কৃত্তিবাস চক্রবর্তী: 'ভেন্টিলেশন' কি জিনিস জিবি কিংবা আইএলএস-এ গেলেই বোঝা যাবে। Pradip Majumder। 

অশোক: সে ভেন্টিলেশন যেদিন কবিতায় এনে মুমূর্ষুকে (আক্ষরিক অর্থে নয়) বাঁচিয়ে-হাসিয়ে দিতে পারব, নিজেকে ধরে ধরে চুম্বন করব, বারে বারে।

প্রদীপ: krittibas chakraborty 'কবিতায় 

ভেন্টিলেশন'- কাকু

 

 

সুমিত কুমার দত্ত: অশোক আমাদের অহংকার। 

অশোক:  

ভালোবাসা, দাদা

 

 

অভিজিৎ দেব:  ভালো 

লাগে আপনার লেখা। সুস্থ থাকুন।

অশোক: অনেক ধন্যবাদ। আরও অনুশীলন করব, আরও ভালো লিখতে চেষ্টা করব। এরকম শুভেচ্ছা আমাকে এই অঙ্গীকার করিয়ে নেয় নিজের কাছে। 

 

 

সমীর চক্রবর্তীঃ অশোক'দা  আমার ভাই

অশোকঃ আদর

 

 

মীর্জা মেহেদী হাসানঃ বাংলাদেশের কাব্য চর্চা সম্পর্কে কিছু বলুন। সরকার আমিন অনু হোসেন ও মুজিব ইরম ছাড়া বাংলাদেশের আর কোন কবির কবিতা পড়েন কি? পড়লে উনারা কারা? 

অশোকঃ নাম ধরে বলা খুব কঠিন। তবে এটুকু বলি, আজকাল বাংলা কবিতা পড়ছি মানে বাংলাদেশে রচিত কবিতা পড়ছি। 

দেবরাজ দেবঃ 

অর্থাৎ? এ রাজ্যের লেখালেখি নিয়ে কিছু কথা বলতে চাইছিলে, অথচ বলা হলো না, এমন কি?

অশোকঃ এখানে প্রশ্নানুগত থেকেছি। এ রাজ্যের লেখালেখি এই প্রশ্নে প্রাসঙ্গিক নয়, মনে হয়। 

 

 

আবু হাসান শাহরিয়ারঃ তিনটি প্রশ্ন:
১. কবিতায় ছন্দের গুরুত্ব কতটা?
২. কবি হওয়ার মতো কবিতার পাঠক হওয়ার জন্যও কি প্রস্তুতি লাগে?
৩. কবি ও কবিতার দশকবিচার কি জরুরি? 

অশোকঃ ১। ক্রিকেট খেলব 'সিলি পয়েন্ট' চিনব না, তা তো হয় না। 

২। পড়তে শিখতে হয়, কারণ, কোনও একটি রচনায় লিখিত বাক্যের আড়ালে থাকে আসল বক্তব্য ও রস
৩। জেলে যদি মাছ বেশি ধরে ফেলেন, ভাগা হিসেবে বেচে দেন, মাপামাপির ঝামেলায় যান না।

 

 

 

 পায়েল দেবঃ আমার দুটো প্রশ্ন.... 

১/কবিতা মাত্রই কি শালীন? 
২/আপনি নিজের নামের সাথে 'কর্ণ' কথাটা ব্যক্তিগত ভাবে কতটুকু সাপোর্ট করেন? 

অশোকঃ ১। কবিতা যদি কবিতা হয়, তা অবশ্যই শালীন। দ্রষ্টা অশালীন কিছু দেখেন না। 

২। আমার রথের চাকা প্রায়ই পাঁকে গেঁথে যায়, আর তখনই জীবন এসে মারতে থাকে... 
তাই মাঝে মাঝে মনে হয়, বন্ধুরা সত্য বলেন। তবে আমার মাতা দেবীর বিবাহের পরেই আমার জন্ম। 

পায়েলঃ  ধন্যবাদ

অশোকঃ স্নেহাদর

পায়েলঃ যারা সৃষ্টিশীল তাদের মাঝে সৃষ্টি বিরাজ করে না তারা সৃষ্টির মাঝে বিরাজ করেন? 

সন্মাত্রানন্দঃ asoke 

deb 🙂

অশোকঃ পায়েল, অসৃষ্টিশীল কেউ নেই। সৃষ্টিতে এক মহাসৃষ্টিশীল বিরাজ করেন। সৃষ্টিই তার দেহ। কিন্তু সৃষ্টি নিজে জানে না, যে তার মধ্যে কে বিরাজিত। 

সব এরকম এক খেলার অংশ 

পায়েলঃ একটি ব্যক্তিগত প্রশ্ন করতে পারি?

অশোকঃ হোক

পায়েলঃ আপনার যদি একটি মেয়ে থাকতো তবে ওর কি নাম রাখতেন? 

অশোকঃ 

পায়েল দেব

পায়েলঃ হা 

হা, কী বলব বুঝতে পারছি না।তবে আমি বাবি বলতাম।

অশোকঃ বলা হোক।আমি

খুশি।সামনে পেলে চকলেট।

পায়েলঃ বাবি, 'কবিতা' কী?

অশোকঃ 'অপরূপ সর্বনাশ'

পায়েলঃআমি এই

সর্বনাশের দিকে প্রতিদিন একটু একটু করে এগিয়ে যেতে চাই।

অশোকঃ এগিয়ে যা

নীহারিকা প্রকাশনীঃ পিতা-পুত্রীর এই স্বর্গীয় কথোপকথনই মনে হয় 'কবিতা'। 

পায়েলঃ নীহারিকা, সে যদি আপনারা বলেন, তবে তাই 

হবে

সুতপা দাসঃ কবিতার কিসুই আমি বুজি না । তাই তুমারে কুন প্রশ্ন আমার শুধানোর নাই।কেবল দুই চারখান মনের কতা । বিস্তর লোকের বিস্তর কতা দেইখ্যা মনে হইল চাইর দিকে তুমার কত কত্তো মাত্রা ! এতগুলা তুমি ! নিরালায় নিরাধারা বইয়া পড়ত হইব । অ-শোক এবং পলাশ।শোকশূন্য হইলে কুন র়ঙ থাকে না আর পলাশে মেলা উজ্জল রঙ।ঠিক যেমুন দুই পিঠ মিলাইয়া একখান মুদ্রা ;একখান সূচক ।আর একখান কতা তুমারে পড়তাম গিয়া এই যে দাড়ি গুম্ফউলা সদাহাস্য সদানন্দের জন্মদাতা মার্কা চেহারাডারে যত সিধা আলাভালা আউলবাউল দেহায় তত সিধা যেমন পাই না। যেমুন বাঁশের কঞ্চিডা দেহায় সুজা কিন্তু আদপে নিজস্ব দর্শনের গুণে বক্র ।আরও একটা কতা মনে আইয়ে শ্রী রামকৃষ্ণ'র লবণের পুতলার গল্প । কেন আইয়ে শুধাইয়ো না উত্তর দিতে পারবাম না ।কেবল মনে লয় মিইশ্যা যাইবা যাইবা করতাসো,তবে়অল্প অল্প বাকি আছে । তুমি যাই লেহো তাই আমার কা়ছে অমৃত রস । 

অশোকঃ তোমার সব কতা য্যান বুঝতে পারছি, তা না। এদ্দুর কই। আমারে চিননের লাইগ্যা তোমার ফেসবুকের কাম লাগনের কতা না। তুমি আমারে চিন বাস্তবের মাডির থিকা। 

দেখতে আমারে ক্যামন দেহায়, হিডা আমি কই ক্যামনে? কিন্তু মনের মিদ্যে বক্রভাব বাস্তব জীবনে পাইছো নি দিদি, আমি তো গো জানি না। পাইলে বড়ো কষ্ট পামু। ক্ষমা চামু। 

বন্ধুরা সব ঠেইলা দিল সাহিত্য-সাগরে।আমি ইট্টু হাবু খাইলাম, ইট্টু খাইলাম ডুবু। ঠাকুরের কথাখান জব্বর কইছো এই যেমুন হেই নুনের পুতুল যায় সাগর মাপনের লিগ্যা।(মাস্টার সহ সকলের হাসি) 
তোমার কাছে ভালা লাগে, আমার আর কী লাগে 
Sutapaদিদি

সুতপাঃ হা রে মনের বক্রতার কতা একবারও কই নাই।হিডা কি তুমারে কইতাম পারি ? হা তুমিও আমারে ভুল বুজলা।কইছি জলের উপরিতল হমান দেখায় ভিতরখান গভীর সরল বক্রতার হিসাবডা বুধ হয় এইপ্রকারে কইতে চা়ইসিলাম।পারি নাই।দেহো কেমুনতর অ়ক্ষম মানুষ আমি ভাই ।

অশোকঃ না রে, আমিই বুজতাম পারি নাই। 

সুতপাঃ এইবারও পারলাম না।তুমি মাজেমইদ্যে ঠিকই কও আমার কতা যায় আন্ধারে হাডনের মতো না বুজার মইধ্য দিয়া। 

কাকলি গাঙ্গুলিকে দেওয়া উত্তর অসাধারণ লাগলো । 

অশোকঃ আরে না রে,

সুতপা'দি, তোমারে আমি বুঝি

চিরশ্রী দেবনাথঃ 

প্রথম প্রশ্ন 


কবি অশোক দেব, 
আপনার বেশ কিছু কবিতায়, অশ্ব এবং গান এই দুটি বিষয়ের বহুল ব্যবহার। আপনি খুব গান ভালোবাসেন, তাই গানের সঙ্গে এই সংমিশ্রণ না হয় মেনে নিলাম, তবে আপনার এই গভীর অশ্বপ্রীতির কারণ কি, আপনি কি সত্যিই তবে কবিতার সম্রাট অশোক? 

দ্বিতীয় প্রশ্ন, 

আপনি খুব সিনেমা ভালোবাসেন। ঠিক এই মুহূর্তে যদি আপনাকে ভারতীয় সিনেমার, আপনার একটি প্রিয় দৃশ্যের কথা জিজ্ঞেস করা হয়, আপনি কোন সিনেমার কোন দৃশ্যের কথা বলবেন? 

তৃতীয় প্রশ্ন 

  
চলচ্চিত্রের নির্বাক অংশটিকে কি কখনো আপনার একটি শ্রেষ্ঠ কবিতা হতে পারতো বলে মনে হয়েছে, এভাবে কোন খন্ডিত দৃশ্যকে কি কখনো কবিতায় অনুবাদ করেছেন বা করার কথা ভেবেছেন? 

অশোকঃ ছবি আঁকার চেষ্টা করতে গিয়ে অশ্বপ্রীতি জন্মেছে। বর্তমান পৃথিবীর রূপরাজনীতি অতীত পৃথিবীর অশ্বক্ষুর হতে উত্থিত ধুলো দ্বারা নির্মিত। আমাকে ঘোড়ায় টানে!! 


চার্লি চ্যাপলিন... 
চলচ্চিত্রের দৃশ্য কবিতায় অনুবাদ করার সচেতন চেষ্টা করেছি বলে মনে নেই। ভাবিওনি। 

চিরশ্রীঃ  ভারতীয় সিনেমার কথা বলেছিলাম. 

অশোকঃ আচ্ছা, উটেরা কী খায়? 

... ওই কাঁটা গাছ, এইসব 
... বেছে খায়? 

মনে আছে দৃশ্যটা? সত্যজিৎ রায় হাসাবেন, সেটাও একদম নিক্তি মেপে... এটা মনে এল এখুনি 

চিরশ্রীঃ  আমি এরকমই উত্তর চাইছিলাম, সত্যজিত রায়ের সিনেমার এই অসামান্য পরিমিতিবোধ, কি সুক্ষ্ম সেন্স ওব হিউমার ! 

 

স্বপন নন্দীঃ অশোক তুই জানসনা তুই কেডা। একবার ঢাকের তালে অশোক দোলে বাজাইসলাম মাইনষের কি নাচ !  

অশোকঃ একদম। সারা বইমেলা ঘুরে ঘুরে নেচেছি। নকুলদার বংশীবাদন... 


এখনও নাচ থামেনি 

(সদানন্দ গল্পগুলির এই কথাটা, সবার মনে থাকে। আর আমাকে বলে, তুই জানস না, তুই কেডা, হি হি হি....

 

 

সুমিত কুমার দত্তঃ নাট্যকার অশোক দেবকে, কবি অশোক দেবের থেকে এগিয়ে রাখা যায় কি?

অশোকঃ  আমি সে কী বলব, সুমিতদা? আমার চেষ্টাই আছে কেবল।

 

 

 স্বপন কুমার ভট্টাচার্যঃঃ অশোক'কে নিয়ে আমরা গর্ববোধ করি । একজন মানুষের মধ্যে এত গুণ কমই দেখা যায় । 

অশোকঃ প্রণতি।

 

 

সলিলা নাথঃ Since it's happening here, some questions for you. 

I am fond of your writing, I can relate to the emotions most of the times. 
But what's more closer to your heart, writing or painting? 
What will be that exclusive thing of a writer or writing that never fails to touch your mind.

অশোকঃ Painting is a hobby to be precise. Writing is what I think about doing all the time. A writer inspires me when he leaves me either crying or sleepless. Same is about a writing. 


please pardon my lame english 

সলিলাঃ Got you, comrade.

Your English is equally affluent as your bangla. 

How lame you ask me, gratitude forever. 

 

মুজিব মেহেদীঃ লেখালেখি করার কারণে ঘরে ও বাইরে তিরস্কার কেমন জুটেছে?

অশোকঃ বেসুমার। এটা জোটে বলেই তো আরও ঘাড় ফুলিয়ে লিখতে বসি। মুজিব ভাই। 

মেহেদীঃ সেটা করতে হিম্মত লাগে। আপনার আছে। থাকুক। 

 

 

অলোক দাশগুপ্তঃঃ যদি একটি সময়যান উপহার পান তবে কোন সময়ে কোন স্থানে যেতে চাইবেন এবং কাদের সঙ্গে আড্ডা দিতে চাইবেন ?

অশোকঃ  সিন্ধু সভ্যতার ভারতে, ওইসব মৃৎশিল্পীদের সঙ্গে আড্ডা দিতে চাইব। 

 

 

তুষ্টি ভট্টাচার্যঃ এত আবেগপ্রবণ কেন আপনি? আপনার চোখে জল টলটল করে দেখি প্রায়ই। দু:খ বা আবেগই কি আপনার লেখার উৎস দেববাবু?

অশোকঃ বেগ কম তাই হয়তো আবেগ বেশি। ইদানীং এটা বেশি হচ্ছে। অশ্রু আমার সখি রে বন্ধু। 

তুষ্টিঃ মারো গোলি অশ্রুকে 

অশোকঃ হা হা হা

 

 

পার্থজিৎ দত্তঃ তোমাকে দেখলেই মনে হয় খুন করে ফেলি? কেন?
অশোকঃ কারণ তুই তো ওটাই করিস। আমি রাজি Parthajit. 

Shoot me someday 

পায়েল দেবঃ এমন মায়াময় চোখে চেয়ে গুলি করার ক্ষমতা কারো হবে না কোনোদিন। 

অশোকঃ  ও তো ক্যামেরা দিয়ে shoot করবে 

পায়েলঃ একেই উদারতা বলে 

পার্থজিৎঃ পায়েল কেড়ে নিয়ে গেল সব।

পায়েলঃ কী নিলাম আবার আমি?

পার্থজিৎঃ কাজ দিয়ে যে পরিচয় হয় সেটা আমার আর অশোক দার পরিচয়। দৃষ্টান্ত 

অশোকঃ একদম

 

 

অমিতাভ কবিরঃ আচ্ছা গুরু, 

বেঁচে থাকা এতো কষ্টের কেন? 
মাতাল হতে এতো ভালো লাগে কেন? 
মাতাল হয়ে কিছু লিখলে পরদিন সাতসকালে মুছে ফেলতে হয় কেন? 

অশোকঃ বেঁচে থাকার সঙ্গে কিছু এমন ব্যবস্থা জুড়ে যায়, যা ব্যবহার না করতে পারলে কষ্ট হয়। মাতাল হতে এত ভালো কেন লাগে তার উত্তর দিতে পারতেন, মির্জা গালিব, সাদাত হোসেন মান্টো কিংবা অন্যভাবে হরিবনসরাই বচ্চন। আমারটা বলি, মাতাল হতে চেষ্টা করি। পারি না। 


মুছে দিতে হয়, কারণ, তার প্রয়োজন ফুরায়। 

অমিতাভঃ এবং, কবিকে এত্তো লোক তোল্লাই দিলেও সে খুন বা আত্মহত্যা করে না কেন? 

অশোকঃ খুন করে না, কারণ প্রবাহিত রক্ত দেখতে অশ্লীল। আত্মহত্যা করে না কারণ ফলিডলে বিচ্ছিরি গন্ধ। 

 

 

মুজিব ইরমঃ আমার কোনো প্রশ্ন নাই, বন্ধু। 

আমি তোমার লেখার মুরিদ। 
এই মুরিদানের জন্য আশির্বাদ করিও। 

অশোকঃ আমাকে পাপী করো না।  মুজিব, তুমি আমার কাছে প্রণম্যপ্রায়। 

 

 

অমলকান্তি চন্দঃ প্রিয় অশোকদা, আপনি কি মনে করেন কবিতায় ছন্দ থাকাটা জরুরী? 

অশোকঃ কবিতা বিশেষে

 

 

রাজেশ চন্দ্র দেবনাথঃ অশোকদা কয়েকটি প্রশ্ন। সরাসরি প্রশ্নেই গেলাম। ১)কবি অনিল সরকার না কবি পীযূষ রাউত কাকে এগিয়ে রাখবেন? ২) ত্রিপুরায় সাহিত্য জগতে আপনার গুনগ্রাহী আছে। তাদের সংখ্যাটা কেমন? ৩) বর্তমান সময়ের বরাকের প্রথম দশকের ৫ জন তরুন কবি ও আপনার ভালো লাগা তাদের বইয়ের নাম জানতে চাই। ৪)প্রকাশককে টাকা দিয়ে নিজের বই প্রকাশ করাটা কি আপনি যুক্তিযুক্ত মনে করেন? ৫) যে প্রকাশক বই ছাপানোর জন্য প্রকাশ্যে টাকা চেয়ে বিজ্ঞাপন দিচ্ছে আর যে প্রকাশক আড়ালে টাকা নিয়ে বই ছাপছেন তাদের মধ্যে কাকে আপনি সৎ প্রকাশক মনে করেন? যদি মনে করেন তবে কেন? ৬) বই প্রকাশের ক্ষেত্রে এক জন মন্ত্রি না একজন লেখক কাকে দিয়ে প্রকাশ করানো ঠিকঠাক বলে মনে করেন? ৭)প্রতিবছর সরকারের দেওয়া পুরুস্কার গুলি কি যথোপযুক্ত ব্যক্তি পাচ্ছেন বলে আপনার মনে হয়? ৮)অনেকেই বলেন আপনার হাত ধরে উদয়পুরে অনেক তরুন কবি উঠে এসেছেন।কিন্তু আগরতলা থেকে তেমন তরুন কবি উঠে আসছে না।এর কি কারন হতে পারে বলে আপনার মনে হয়? ৯)নব্বই দশকের ত্রিপুরার কবিদের মধ্যে কারা শতবছর পর টিকে থাকবে বলে আপনার মনে হয়? 

অশোকঃ যথাসাধ্য বলিঃ 

১। অনিল সরকার যে ভঙ্গীতে যা লিখতেন, তাঁর সেই ভঙ্গী ও বিষয়ে তিনি অনন্য। পীযুষদাও তাঁর ক্ষেত্রটিতে, তাঁর নিম্নগ্রাম অথচ স্পষ্ট স্বরের জন্য নমস্য। 
২। সে সুমারিটি আমি করিনি। রাজেশ যদি যুক্ত হন, তবে একজন বাড়লো। 
৩। নাম ধরে ধরে বলায় বিশ্বাস করি না। সময় পেলে কবিতা ধরে ধরে বলব। 
৪। যুক্তি নেই। কিন্তু প্রকাশনা শিল্পের ( যেকোনো শিল্পের) প্রাথমিক পর্যায়ে সেটি হয়তো একটি অসহায়তা। আমার কোনও বইয়ের ক্ষেত্রে টাকা দিতে হয়নি। উল্টে কিছু প্রাপ্তিযোগ হয়েছে। 
৫। প্রকাশ্যটি যেহেতু প্রকাশ্যে চাওয়া হয়েছে। যেভাবে হয়েছে, সেটি আমার কদর্য লেগেছে। গোপনের কথা যেহেতু গোপন, সে আমি জানি না। 
৬। সেটি সংশ্লিষ্ট প্রকাশকের পলিসি ও সংস্কৃতি। তবে 'এ বিষয়ে আমি বলবার যোগ্য ব্যক্তি নই' বলে বক্তৃতা শুরু না হলেই ভালো। 
৭। পুরস্কার সম্পর্কে আমার আগ্রহ এখনও জন্মায়নি। জন্মালে বলব। 
৮। ওঁরা প্রতিভাবান ছিলেন। আমি সঙ্গে থেকেছি মাত্র। 
আগরতলা আর সকল রাজধানীর মত রাজনীতিসর্বস্ব হয়ে যাচ্ছে 
৯। শত বছর? বড় কম সময় বলা হল। 

রাজেশঃ ধন্যবাদ, দাদা

 

আব্দুল হালিমঃ কবি অশোক দেব মহাশয়ের কাছে আমার একটিই প্রশ্ন---"কবিতা ও জীবন" এ সম্পর্কে আপনার উপলব্ধি কি?  

অশোকঃ একই জিনিস। একটি ভাষাগত, অন্যটি ভাষাতীত 

হালিমঃ অসংখ্য ধন্যবাদ দাদা। এত সহজ ভাবে উত্তর পেয়ে যাব, ভাবতেও পারিনি। কি মায়াময় কথা বললেন " একটি ভাষাগত,অন্যটি ভাষাতীত"-- আমার অতৃপ্ত জিজ্ঞাসার অসাধারণ সমাধান। আমি ধন্য হলাম দাদা। 

 

 

প্রদীপ মজুমদারঃ একটি অপ্রতিরোধ্য কবিপ্রতিভার দৌরাত্বের কাছে একটি অসামান্য গানের প্রতিভা প্রায় খুন, চেনো তাদের ?

অশোকঃ বেদনার্ত করে দিলে। গানের প্রতিভার আত্মত্যাগের বাতিক। 

প্রদীপঃ ইতিহাস ছেড়ে কথা বলবে ?

অশোকঃ না

 

 

সঞ্চয়িতা ভট্টাচার্যঃ আশ্চর্য এক ঘোর সম্মোহিত করে টেনে নেয় তৃতীয় এক বিন্দুর কাছে ! চেয়ে দেখি এবং শোনে যাই বহুদিন বহুদূর, কেবলই … কেবল , প্রিয় কবি। 


সব সীমানা বেঁকে গেলে কোথায় দাঁড়াতে হয় ? ম্যাজিক আর রিয়ালিজম পরস্পর সমান্তরাল না বিপরীত ?
প্রণাম 

অশোকঃ সীমানার নাভিতে। 

একই। শিশু এবং কৌতূহলীর কাছে জগতের সকলই ম্যাজিক। শিশু ও কৌতূহলী কেবল জীবিত নয়, তারা ক্রমজায়মান। কেবল জীবিতের কাছে কিছু কিছু জিনিস হয় রিয়েল। সুতরাং যাকে ল্যাটিন আমেরিকা থেকে এনে 'ম্যাজিক রিয়েলিজম' বলা হয়ে থাকে সে শুধু একটি বৌদ্ধিক নামকরণ মাত্র। সেসব পূর্বাহ্ণেই ছিল সাহিত্য। এই আমি ভেবেছি।

প্রতিপ্রণাম 

সঞ্চয়িতাঃ সীমানার নাভি -- বিস্তৃত চাই আরেকটু। 

"প্রতিপ্রণাম " ব্যাপারটি প্রবঞ্চনা হলো! ধূলিকণা চাই যে .. 

 

সুশান্ত চক্রবর্তীঃ সত্য ও ভালবাসার মধ্যে কাউকে বেছে নিতে হলে কাকে বেছে নেবেন , যেখানে একটি কে বেছে নিলে অন্য টির মৃত্যু হয় ? 

অশোকঃ সত্য ও ভালোবাসা ভিন্ন নয়। হতে পারে না। সুতরাং বাছাই করার প্রশ্ন নেই হয়তো। 

 

 

সুপর্ণা সাহাঃ 'আমিও ভণ্ড অনেকের মতো 

গান দিয়ে ঢাকি জীবনের ক্ষত' (কবীর সুমন)

আপনার জীবনের ক্ষতগুলো কী দিয়ে ঢাকেন? 

অশোকঃ 'হয়ে ওঠা গান, 'আলখাল্লা' আর 'যে পথে গিয়েছে গান' এই তিনিটি বই এবং তাঁর স্বরচিত ও সুরারোপিত গানগুলি ছাড়া অন্য সুমনকে আমি স্বীকার করি না। যে সুমন কোনও মদনের পক্ষ নেন কিংবা দিদিপূজনের নিদান দেন তাঁকে আমি চিনি না। 


পঙক্তিগুলো দেখুন। প্রথম পঙক্তিতে একটি যুক্তিস্রোত আছে। যেহেতু অনেকে ভণ্ড, সুতরাং আমিও ভণ্ড। এতে নিজের ভণ্ডামোকে একটু লঘু করার চেষ্টা আছে। এটাই সবচেয়ে বড় ভণ্ডামো। আর আমি ভণ্ড এই স্বীকারোক্তি করার মধ্যে আগামীতে আরও ভণ্ডামো করার লাইসেন্স আদায় করে নেওয়া গেল। ভাবখানা এমন, 'আমি তো বলিই, আমি ভণ্ড'।

এবার আপনার প্রশ্নের জবাব দিতে চেষ্টা করি। ভণ্ড শব্দটির দুটি মুখ। সামাজিক ও রাজনৈতিক। আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায়, পাঁচজন মানুষের মধ্যে তিনজন সমস্বরে একটি ভুল কথা বললেও বাকি দুজনকে সেটি মেনে নিতে হয়। সুতরাং ভণ্ডামো রাষ্ট্রপ্রযোজিত। এখানে কেউ অভণ্ড থাকতে পারবে না। যারা একটি দীর্ঘ জীবন বেঁচে ফেলেছেন, তারা বেশি করে ভণ্ডামো ব্যবহার করে ফেলেছেন। যারা পারেন না, তারা অনন্য রায় হয়ে যান। সুতরাং আমি ভণ্ড। শুধু একটি উপায় করে নিয়েছি, ভণ্ডামোর জবাবেই ভণ্ডামো করি। সচেতন ভাবে কারও ক্ষতিসাধন করার জন্য বা নিজেকে হনু দেখানোর জন্য করি না।

এবার, জীবন আমাকে কোনও ক্ষত দেয় না। জীবন ক্ষত যদি দেয়ও সেটিকেও প্রসাদ বিবেচনা করি। ফলে ঢাকার চেষ্টা করি না। জনে জনে ডেকে দেখাই। আমার সমবেদনা পেতে ভালো লাগে।সুপর্ণাঃ আপনার উত্তরে ঋদ্ধ হলাম।

সুশোভন দত্ত মজুমদারঃ ভাল বলেছ গো,

আসলে ক্ষত চলমান জীবনের অলংকার। স্থবিরতায় ক্ষত না, অলংকার তো দেখানোর জন্যই।

দেবরাজ দেবঃ  অশোক'দা, অশোক'দা... কেমনে লেখো? কী কইরা লেখো? কেবলই ভাবি, কেবলই ভাবি। ইশ!! একবার তোমার মতো একটা কথা কইতে পারতাম!!

শুভঙ্কর চক্রবর্তীঃঃ  বনমালী তুমি 

আর জনমে
হইয়ো রাধা। 

 

 

সুশোভন দত্ত মজুমদারঃ আমি মন্দিরের বাইরে চাতালে বসে সবার অর্ঘ্য নিবেদন প্রত্যক্ষ করে ধন্য হলাম,তীর্থঙ্করকে ধন্যবাদ জানানোর ভাষা নেই।

বেঁচে থাকো নীহারিকা, চিরজীবী হও। 

 

 

 অমলকান্তি চন্দঃ আপনি কোন ছন্দে বেশী সাবলীল? 

অশোকঃ আমার মনে হয় 'অক্ষরবৃত্ত' বুঝি আমি পারি। কিন্তু অধিকাংশ লেখায় আমি স্বেচ্ছায় ছন্দমিশ্রণ করে দিই। একই কবিতায় একাধিক চাল চালাই। এটি আমার অবোধের গোবধ। 

কাজী মাহতাব সুমনঃ কবিতায় ছন্দ কি কবির আরোপিত না স্বতঃস্ফূর্ত ? 

অশোকঃ আরোপিত বোঝা গেলে ভাতে বালু 

সুশোভন দত্ত মজুমদারঃ উফ!!! সেরা সেরা....

 

 

অশোকানন্দ রায়বর্ধনঃ  এই সিরিজের এখন পর্যন্ত সেরা প্রশ্নোত্তর পর্ব ৷ অবশ্য এটা আমার অভিমত ৷আপনার অভিমত কী কবি? 

মেধাবী শায়কবিদ্ধ হয়ে আপনার কী মনে হচ্ছে হে প্রিয়? 

অশোকঃ কী বলি! 

বিদ্ধ হতে ভালো লাগে, বেঁচে আছি বোঝা যায়। 

 

রাণা যোধবীর জংঃ মাঝে মাঝে প্রাণে আমার পরশ খানি দিয়ো..... 

অশোকঃ দিয়ো

 

 

মৌলিক মজুমদারঃ যত প্রশ্ন ছিলো, সে সবেরই উত্তর পেলাম, যেসব প্রশ্ন ছিলোনা তাদেরও উত্তর পেলাম, তাই তেমন কিছু আর জিজ্ঞাস্য নেই, অশেষ শ্রদ্ধা, বিশেষ ভাবে চমতকৃত হলাম যেভাবে আপনি চটজলদি উত্তর দিয়ে গেলেন, যেন আঙ্গুলের ডগায় বসানোই ছিলো, স্বতস্ফুর্তভাবে টাইপ হয়ে এলো..... যেতে যেতে যেটা জানতে চাইবো, কবিতা কি আপনার কাছে নিজে থেকেই আসে না তাকে ডাকতে হয়? ডেকে নিয়ে আসলে নাহয় তাতে ছন্দ সাজ থাকে, নিজে থেকে আসলেও কি ছন্দ গায়ে জড়ানো থাকে? ভালো থাকবেন। ধৃষ্টতা মাফ।

অশোকঃ  নিজেকে একটি মনোভূমিতে স্থাপন করার চেষ্টাটি আমার, বাকিটা কবিতা নিজে করেন। 


পরে একটু সংস্কার করি, সেটি সম্পাদকের কাজ। নির্মাণে নির্ভর করি কম। 

 

 

সন্মাত্রানন্দঃ অশোক, এখন প্রশ্নের উত্তর লিখছে। ... A friend is typing a comment... 

অশোকঃ দিলাম উত্তর

সন্মাত্রানন্দঃ পেলাম উত্তর

 

 

কাকলী গাঙ্গুলীঃঃ কবি অশোক, কবিতায় তিনটে প্রশ্নের উত্তর দেবেন? কি, কে এবং কোথায়? 


এরপর প্রশ্ন নয়, অামি দুজন প্রিয় অশোকের কাছে চারটে খুব সাধারণ শব্দ বলব। অার বিশ্বাস রাখি শিল্পী অশোক এই চারটে শব্দের জন্য চারটে দৃশ্যের কথা বলবেন অার কবি অশোক বলবেন চারটে পংক্তি, যার সবগুলোই অসাধারণ হবে।
নিবিড়, ধূসরতা, স্বপ্ন, নিঃশব্দ। অশোকঃ রূপ। অরূপ। মনোজগতে। 


১। ছুটে এসে ছেলেটি জুটে গেল মায়ের স্তনের বোঁটায়
২। একজন ধুনকর গান ধুনে ধুনে কান্না ওড়াচ্ছে
৩। বিশাল উপত্যকায় এসে ট্রেন দাঁড়ালো।
এখানে গাছেদের ফুল ফোটাতে শেখান
একজন ডানাওয়ালা মালিনী।
৪। দেখি, অন্ধকে ফেলে রেখে চলে যাচ্ছে তার লাঠি

(জানি না কী বলেছেন, আর আমি কী বলেছি। একই পঙক্তির মধ্যে দুটো রূপকে আঁটানোর চেষ্টা করলাম, এই আমার দ্বারা হল) 

কাকলীঃ তোমার মনোজগতে যে রূপ-অরূপের খেলা, জানতাম তাতে এরকমই অসাধারণ কিছু ছবি আঁকবে, যা আমরা কোনোদিন জানিই নি। মুগ্ধ হলাম। 


আর এই খেলাটা আরেকদিন খেলার লোভ রইল। শব্দ বলব আমি, এমনভাবেই ছবি আঁকবে তুমি। অন্যদিন, অন্য কোনোখানে। 

অশোকঃ রাজি, বৌঠান

কৃত্তিবাস চক্রবর্তীঃঃ এইজন্যেই তো অশোক দেব।কবি অশোক দেব।আনপ্যারালাল।



সুদীপ পালঃ

১. ত্রিপুরায় গল্প সাহিত্যের ক্ষেত্রে দুর্বল কেন? মানে আমি বলতে চাচ্ছি যে,এখানে এমন কোনো গল্পকার বা ঔপন্যাসিক বের হচ্ছেন না কেন, যাঁদের বই পাঠক লাইন দিয়ে কিনবে?

২. কবিতার বইয়ের পাঠক কম কেন? আপনার কবিতার পাঠক কেমন আছে?

 

 

প্রদীপ মজুমদারঃ কুমায়ুনের খাড়া পাহাড়। সরু ও ঘন ছায়াবীথি। হিমালয় ছুঁয়ে আসা হাওয়ার ফিশফিশানি। চরম নির্জনতার বুক চিরে আটটি অশ্বক্ষুরের শব্দ, এখনও কানে বাজে? 


ফিরে দেখি তোমার দুচোখে গঙ্গা যমুনার স্রোত। তখনতো তুমি আর কর্ণ নও,ভগীরথ। কি ভেবে কেঁদেছিলে বন্ধু? এতদিন জিজ্ঞেস করিনি, আজ করলাম। 

নীহারিকাঃ Come on Asokeদা' Lets talk gall... 


নীতা আম্বানীর বিজ্ঞাপন (come on India lets football) মনে রেখে... 

অশোকঃ একদম অন্দরে স্বর্ণগদা চলল। একদম নিজের কথাটুকু বলে ফেলতে হবে, বুঝতে পারছি। বলি 


আমার নিজের সঙ্গে কথোপকথনের ভাষাটি অশ্রুর। যত নিকটজনই হোক না কেন, সেই অব্দি নিকটে কাউকে আসতে দিতে অক্ষম হয়েছি। সেদিন তোমার থেকে নিজেকে আড়াল করা যায়নি। ভালো লেখা, ছবি, সিনেমা, ভালো নীরবতা, ভালো সংগীত যখন নিজের ভেতরে আত্তীকরণ করি, সেসব অশ্রুর পথ বেয়ে অন্তরে যায়। কিছু ভেবে সেটা হয় না। এমনি হয়। জানি না, এ-ও হয়তো কোনও অসুখ হবে।

সেদিন সেই অপার্থিব নির্জনতা, সেই পথ, সেই অশ্বক্ষুরের ধ্বনি, সেই বনগোলাপ... সব মিলে বিপন্ন করে দিয়েছিল, যে বিপন্নতা হয়তো অন্তর্গত রক্তের ভেতর খেলা করে...

পায়েল দেবঃ বাবি জীবনানন্দের মতো করে মৃত্যুকে ভেবেছো কখনো? 

যদি ভেবে থাকো তবে কি অনুভূতি?
আর না ভেবে থাকলে তোমার কাছে 'মৃত্যু' কি? 

অশোকঃ জীবনানন্দের মতো করে কিছু ভাবা আমার পক্ষে অসম্ভব। কারও মত করেই ভাবা যায় না। ভাবলে নিজের সত্ত্বাকে লজ্জিত করা হয়ে যায়। 


মৃত্যু সখি, কিংবা মৃত্যু হল খেয়ে উঠে হাত ধুয়ে ফেলা 

পায়েলঃ মৃত্যু আর কবিতা সামনে থাকলে কোনটিকে নেবে তুমি? 

অশোকঃ দুটি অপশন লজিকে দাঁড়ায় না রে। 

 

অমলকান্তি চন্দঃ প্রিয় কবি অশোকদা, ত্রিপুরার শিশু সাহিত্যরচনা নিয়ে আপনার কি অভিমত? 

অশোকঃ বড় কঠিন কাজটি নিয়ে বড় কঠিন প্রশ্ন। আমাদের মত পড়তি কবি হয়ে ওঠা।

উদয় শংকর ভট্টাচার্যঃ  ভাই অশোক, " আমি তোমার যাত্রি দলের রব পিছে, স্থান দিও হে আমায় তুমি সবার নিচে -"...। তোমাকে কিছু লিখতে ভয় করে ভাই। আমার অতি নিম্ন মেধাই এর একমাত্র কারণ। তবুও তোমার বন্ধু তালিকায় আমি আছি ভাবলেই রোমাঞ্চ লাগে। তুমি হয়তো শুনলে অবাক হবে - তোমার একটি 

মন্তব্য ফেসবুকে পড়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকি।

অশোকঃ শংকর'দা, কী বলি বল তো? আমি তোমার গুণগ্রাহী। ভালোবাসা। 

উদয় শংকরঃ আমার একটি বিষয় জানার ছিল। সংগীত কি মানুষের জীবনে অপরিহার্য? সংগীত মানুষের জীবনে কি কাজ করে? কিভাবে কাজ করে?

অশোকঃ মানুষ সংগীতের সন্তান। শ্বাস-প্রশ্বাস, হৃদয়ের গতি, শিরা-ধমনীতে ধাবমান রক্তের প্রবাহ এক অমোঘ ছন্দের অধীন, সংগীতের অধীন। তাই মানুষ প্রতিটি পাতার পতনের শব্দে, পক্ষীডাকে, জলের কলতানে সংগীত খুঁজে পেয়েছিল এবং তার অনুকরণ করতে চেয়েছিল। করে করে একদা বহু বহু ধ্বনিকে নিয়মে বেঁধে ফেলে নিজেদের জীবনকে সাজাতে ব্যবহার করতে শিখেছে। মানুষের সবচেয়ে মহৎ আবিষ্কার বাদ্যযন্ত্র। সুতরাং সংগীত ছাড়া মানুষের জীবন হয় না, হতে পারে না বলে মনে হয় আমার। 


(আমার জীবন আরও একটু বেশি অর্থহীন হবে সংগীত ছাড়া) 

উদয় শংকরঃ  ভালো। যদি এই বিষয়ে কখনো লেখালেখি কর, আমার আগ্রহ রইল বিস্তারিত জানার। 

 

সুমিত কুমার দত্তঃ মৃত্যুর পর তোর সমাধিতে কি লিখবো?যদি আমি না থাকি কি লেখা হবে? ....... ভালোবাসি তাই.......... চাইলাম। এখানে দলিল হিসাবে থাকবে।

অশোকঃ  একটি কবিতা লিখেছিলাম অনেক আগে 


'একটি কষ্টের কাছে আছি
আছি বহুকাল
কষ্টের দেশ হতে পাখি আসে
কষ্টে উড়ে যায়।'

(ছায়াসংগীত) 

 

সুশোভন দত্ত মজুমদারঃ দারুণ উপভোগ করলাম এই প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব । পড়লাম , বুঝতে চেষ্টা করেছি , ভাল লেগেছে খুউব । অশোক কে একটি ছোট প্রশ্ন ঃ- আমি বিশ্বাস করি শিল্পী - সাহিত্যিক দের জীবনের প্রতি , প্রবহমান জীবন ধারার প্রতি এবং সর্বোপরি মানব সমাজের অগ্রগমনের নীতি র প্রতি দায়বদ্ধতা থাকা বিশেষ জরুরী । কত টুকু মানো তুমি অশোক ?? 

অশোকঃ ফেসবুকের বাইরে ছিলাম। দেরী হয়ে গেল . 

সুশোভন'দা, সরি।

প্রথমে ধন্যবাদ, পুরো বিষয়টা পাঠ করার জন্য।

ইতিহাসের ধারায় একজন শিল্পী কেবল অংশগ্রহণ করলে তিনি নিজের কাছেই একদা ক্লান্তিকর হয়ে পড়েন। সামান্য এন্টারটেনার হয়ে যান। তাঁকে হয় নিজের মাধ্যমে কিংবা সমাজের সদর্থক পরিবর্তনে ভূমিকা নিতে হয়। যেমন প্রথাগত কোনও শিক্ষা না নিয়েই পল গঁগ্যা তাঁর মাধ্যমে বৈপ্লবিক পরিবর্তন করেছিলেন। যেমন, বাংলা কবিতার গতিমুখ পাল্টে দিয়েছিলেন মাইকেল মধুসূদন...

মানব সমাজের অগ্রগমনের নীতির প্রতিও একজন শিল্পী দায়বদ্ধ থাকেন। সেটা তাঁর মনে পূর্বাহ্ণেই আছে বলে তিনি শিল্পকর্মে নিজেকে নিয়োজিত করবার প্রেরণা পান। আমার তাই মনে হয়। 

 

 

টফি মুখার্জীঃ এই ভাই, তুই কই গেলি? আমি যে আশীর্বাদ করবো বলে রোগশয্যা থুড়ি অ্যাক্সিডেন্ট শয্যা থেকে উঠে বসলাম! 

আমার কোন প্রশ্ন নেই, আমার মনে হয় আমি নিজেকে কিছুটা চিনি, সেই সূত্রে ভাই'টিকেও চিনি কিছুটা। শুধু বলব- যে আলোঝরা হাসি অশোক ভাইয়া হাসতে পারে সেই আলোই ঝরে তার লেখায়, আঁকায়, নতুন নতুন বিষয়ের উদ্ভাবনে। স্বয়ং সরস্বতীর কমলাসন পাতা আছে ভাইয়ের মননে।বেচেঁ থাক্..........

অশোকঃ  ভালো থেকো দিদি। তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠো। 

 

 

সুদীপ পালঃ আপনার পাখি-ছায়া নাটকটি তো দারুণ হলো।আমার একটা প্রশ্ন।নাটকের স্ক্রিপ্ট মঞ্চে কতটা জমলো এটা ভেবে নাটক লিখতে হবে? রক্তকরবী নাটকখানি নাকি তেমন মঞ্চ সাফল্য পায় নি? 

 

 

ব্রজেন্দ্র সিনহাঃ Ashok we too know Asma means horse and aswA means stone 

অশোকঃ হা হা হা। আপনি এখনো মনে রেখেছেন!! 

সন্মাত্রানন্দঃ উলটো

ব্রজেন্দ্রঃ Again I say l know the diff.It was a joke meant for Ashok Deb.Asmar ..Asmak asmari...Asmari and several other words related to Asma. .That's why his reaction was ha ha ha.momo sirasi MAA likho 

অশোকঃ এইখানে একটা কথা বলি। শ্রদ্ধেয় Brojendra Sinha সম্যক রূপে শব্দ দুটির ভেদ জানেন। তাঁর পাণ্ডিত্য বিদিত। আমি বহুকাল আগে একটি পাথরে বসা ছবি পোস্ট করেছিলাম। তার শিরোনাম দিয়েছিলাম, 'অশ্মারোহী' সেই সূত্রে আমার ও ব্রজেনদার মধ্যে মজা হয়েছিল। সেই সূত্রে তিনি এইখানে বলেছেন। 

অশোকানন্দ রায়বর্ধনঃ 'গুরু বলে ভেদ তুলিতে ঝরে যেন দুই নয়ন' 

 

 

বিমল সিংহঃ  আপনার লেখার ছন্দ কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

স্বপন নন্দী 

অশোক তুই জানসনা তুই কেডা


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন